Breaking News

মেয়েদের প্রতি কেমন আচরণ করবেন, কেমন আচরণ করলে মেয়েরা আপনার উপর সন্তুষ্ট হবেন। জেনে নিন ইসলামের দৃষ্টিতে…

মেয়েদের প্রতি সদাচরণ

মহান আল্লাহ বলেন : “আর তাদের (স্ত্রীদের) সাথে মিলেমিশে সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করো’।

(সূরা আন-নিসাঃ ১৯)

মহান আল্লাহ আরো বলেন:  স্ত্রীদের মাঝে পুরোপুরি ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তোমাদের সাধ্যাতীত। তোমরা মন-প্রাণ দিয়ে চাইলেও তা করতে পারবে না। কাজেই (খোদায়ী আইনের লক্ষ্য অর্জনের জন্যে এটুকুই যথেষ্ট যে,) একজন স্ত্রীকে একদিকে ঝুলিয়ে রেখে অন্যজনের দিকে একেবারে ঝুঁকে পড়বেনা। তোমরা যদি নিজেদের কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তাহলে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়’।

(সূরা আন-নিসা : ১২৯)

হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:  আমার কাছ থেকে মেয়েদের প্রতি সদাচরণ করার শিক্ষা গ্রহণ করো। কেননা, নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে ওপরের হাড়টাই সবচেয়ে বাঁকা। অতএব, তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তবে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি ফেলে রাখো, তবে বাঁকা হতেই থাকবে। কাজেই মেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।

(বুখারী ও মুসলিম)

বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে : মেয়েরা পাঁজরের বাঁকা হাড়ের মতো। তুমি তা সোজা করতে গেলে ভেঙে ফেলবে। অতএব, তুমি তার কাছ থেকে কাজ আদায় করতে চাইলে এ বাঁকা অবস্থায়ই করো। মুসলিমের অপর এক বর্ণনা এরূপ : মেয়েদেরকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কখনোই এবং কিছুতেই তোমার জন্যে সোজা হবে না। তুমি যদি তার থেকে কাজ নিতে চাও, তবে এ বাঁকা অবস্থায়ই তা নাও। যদি তাকে সোজা করতে যাও, তবে ভেঙে ফেলবে। আর এ ভাঙার অর্থ দাঁড়াবে বিচ্ছিন্ন হওয়া। অর্থাৎ তালাক দেয়া ।

 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যাম’আ (রা) বর্ণনা করেন । একদিন তিনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুত্ব দিতে শুনলেন। তিনি তাঁর খুতবায় মেয়েদের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে কিছু উপদেশ দিলেন। তিনি বললেন : তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তাকে বাঁদী-দাসীর ন্যায় প্রহার করে। দিনের শেষে সে আবার তার সাথে শয়ন করে (অর্থাৎ যৌন-সঙ্গম করে)। এরপর তিনি বাতকর্মের কারণে। লোকেদের হাসা-হাসির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বললেন : যে কাজ তোমাদের মধ্যকার যে কোন ব্যক্তি নিজেই করে, তার জন্যে সে নিজেই কেন হাসবে?

(বুখারী ও মুসলিম)

হযরত আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কোনো মুসলমান পুরুষ যেন কোন মুসলমান নারীর প্রতি হিংসা-দ্বেষ ও শত্রুতা পেষণ না করে; কেননা তার কোনো একটি বিষয় তার কাছে খারাপ মনে হলেও অন্য একটি বিষয় তার পছন্দ হবেই। (অর্থাৎ তার দোষ থাকলে গুণও থাকবে)। (মুসলিম)

হযরত আমর ইবনে আহওয়াস আল-জুশাম্মী (রা) বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজ্জের ভাষণ (খুতবা শুনেছেন। সে ভাষণে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। এবং লোকদেরকে ওয়াজ-নসীহত করার পর বললেনঃ তোমরা মেয়েদের প্রতি সদাচরণ করো; কেননা তারা তোমাদের হেফাজতে রয়েছে। তোমরা তাদের কাছ থেকে (বৈধ) সুযোগ-সুবিধা লাভ ছাড়া অন্য কিছুর অধিকারী নও। অবশ্য তারা যদি প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়, তবে তোমাদের বিছানা থেকে তাদেরকে আলাদা করে দাও; এমনকি, প্রয়োজনে তাদেরকে প্রহার করো; কিন্তু কঠোরভাবে নয়। (এরপর) যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের জন্যে ভিন্ন পথ অনুসন্ধান করো না। সাবধান! তোমাদের স্ত্রীদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো: তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের অপছন্দনীয় লোকদের দ্বারা তোমাদের বিছানা কলুষিত করবে না এবং তাদেরকে তোমাদের বাড়িতে ঢোকার অনুমতি দেবে না। তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলোর তোমরা তাদের পানাহারের ব্যাপারে ভালো ব্যবস্থা করবে, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। (তিরমিযী)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *