Breaking News

জীবেন সফল হওয়ার জন্য কি শুধু পরিশ্রমই যথেষ্ট? আচ্ছা আসুন একজন সফল মনুষের গল্প জেনে নেই!

রাজীব হারী ওম ভাটিয়া যিনি আজ আমাদের কাছে আকসয় কুমার নামে পরিচিত জন্মে ছিলেন পাঞ্জাবের আম্রিতশার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। প্রাপ্ত বয়স হবার পর তিনি মার্সালআর্ট শিখতে ব্যাংককে যান।

এবং তার পর তিনি খাইল্যান্ডে মুই থাই শেখার পর তিনি বাংলদেশের একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ ও করেন। এরপর বেশ কিছুদিন তিনি কোলকাতাতেও কাজ করেছেন। এর পর তিনি যখন মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন তখন তিনি নিজের উদ্যোগে কিছু বাচ্চাদের মার্সাল আর্ট শেখাতে শুরু করেন। এরপর একদিন তার স্টুডেন্টের বাবা তাকে একটি অফার দেন। তার ছবির লুক খুব ভাল ছিলো তাই তাকে একটি ফার্নচারের শুর্টে মডেলিং করতে বলেন। এর বিনীময় তাকে ৫,০০০ টাকা দেন। যা ছিলো তার সারা মাসের আয়ের চেয়েও বেশি। তিনি চিন্তা করলেন দিন মাত্র ২-৩ ঘন্টা কাজ করেই এত টাকা উপার্জন করা সম্ভব?

 

আর এখান থেকে তার মডেলিং সূচনা শুরু করেন। এবং তিনি আজ সফল অভিনেতা। সেইদিনের ৫,০০০ টাকার মডেল আজ প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের মালিক যা বাংলাদেশি টাকায় ১৪৬০ কোটি টাকার ও বেশি। এবং তিনি বর্তমানে প্রতিটি মুভির জন্য ২৫ কোটি টাকা চার্জ করেন।

বলিউড জগতে আকসয় কুমার এমন ই একজন অভিনেতা যিনি ভিষন ডিসিপ্লিন এবং হেলদি লাইফ কাটান। এবং তিনি সম্পূন্য তার নিজের ক্ষমতায় বলিউডে নাম অর্জন করেন।

তো আজ আমরা তার ই জীবন খেকে কিছু স্মাট আইডিয়া নিবো।

একজন আকসয় কে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলো যে, “আপনার পর পর ১১ টি ফ্লিম ফ্লপ হবার পর ও আপনি কিভাবে হিরো হয়ে টিকেছিলেন?”

উত্তরে তিনি হেঁসে বল্লেন, ” পর পর ১১ টি নয় ১৬ টি ফ্লিম আমার ফ্লপ যায় এবং তার পর ও আমি হিরো হিসেবে টিকে ছিলাম। তিনি আরো বলেন, তিনি কতটা ভালো অভিনয় করেন কতটা দেখতে সুন্দর এটা কাজের উপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে আপনি কতটা প্রফেসনাল। আপনার Passion কেমন। ঠিক মত মুভি সুটিং এ সেট এ আসা ডিরেক্টরের নির্দেশ মত অভিনয় করা এগুলা যদি কেউ মেইনটেইন করতে পারে তবে অবশ্যই একজন অভিনেতা একদিন না একদিন সফল হবেই।

তো আমদের প্রথম লেসনঃ প্রফেশনাল হতে হবে।

আকসয় এর মত শুধু মাত্র কঠোর পরিশ্রম দিয়েই কেউ সফল হতে পারে না। কিছু ধয্যের ও প্রয়োজন হয়। সময়ের সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োজন হয়।

আকসয় এক সাক্ষাতকারে তার লাইফের একটি ট্রানিং পয়েন্ট শেয়ার করতে গিয়ে বলেন একসময় তিনি মডেলিং এর জন্য ব্যাঙ্গুলুরু থেকে প্রস্তাব পান। কিছু অসুভিধার জন্য তিনি তার ফ্লাইট মিস করেন। সেই দিন ই সন্ধাবেলায় নটোরেক্স থিয়েটারে পৌছান এবং সেখানে একজন মেক আপ ম্যান তাকে দেখে প্রথমে জিঞ্জেস করেন ‘হিরো হতে চাও’? আকসয় রাজি হন। এবং এই মেক-আপ ম্যান ই যিনি কি না আজ ও আকসয় কুমরারে পারসোনাল মেক-আপ ম্যান হিসেবে রয়েছেন।

তিনি ডিরেক্টর প্রমথ চক্রবর্তির সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেন ওই মেক-আপ ম্যান। প্রমথ চক্রবর্তি তার ছবি পর্টফিলো দেখে বলেন ছবি তো তোমার বেস ভালই আসে হিরো হতে চাও? আকসয় রাজি হন এবং তখনই প্রমথ চক্রবর্তী ৫,০০১ টাকার একটি চুক্তি করেন আকসয়ের সাথে।

যদি আকসয় কুমার ফ্লাইট ধরে ব্যঙ্গুলুরু চলে যেতেন তাহলে হয়তো তার এমন একটি সুযোগ মিস করতেন এবং সামান্য মডেল হিসেবেই থেকে যেতেন।

তো হার্ডওয়ার্কের পাশাপাশি ধর্য্যটার ও প্রয়োজন। সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করার।

তো ২য় লেসনঃ ধর্য্য এবং কঠোর পরিশ্রম দুইটি প্রয়োজন।

আকসয়কে যখন জিঞ্জাসা করা হয় তিনি কিভাবে বছরে চারটি শুটিং শেষ করেন যেখানে অন্যান্য অভিনেতারা মাত্র একটি শুটিং করতেই হিমসীম হয়ে যান, তখন তিনি উত্তর দেন, তার কিছু সঠিক অভ্যাস তাকে কাজে রেগুলার থাকতে সাহায্য করেন।

তার মধ্যে অন্যতম হলে রোজ রাত ১০ টায় ঘুমিয়ে পরা এবং সকাল ৫টা ঘুম থেকে উঠে কিছু নিয়োমিত ব্যায়াম করা।

এবং দ্বিতীয় হল কোন প্রকার নেশা দ্রব্য গহন না করা। যেমনঃ এ্যালকোহল, সিগারেট ইত্যাদি।

তো ৩য় লেসনঃ হেলদি থাকুন, ফিটনেস ভালো রাখুন।

আশা করি আমরা তার লাইফ স্টাইল থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহন করবো এবং এর প্রেক্ষিতে নিজিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *